তারিখ : ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় অপচিকিৎসার কারণে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ

ভালুকায় পল্লী চিকিৎসকের অপচিকিৎসার কারণে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ    
[ভালুকা ডট কম : ২৪ মে]
ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের খাদিজা খাতুন (১৯) নামে এক গৃহবধূ বিষপান করার পর পার্শ্ববর্তী সখিপুর উপজেলার আড়াইপাড়া এলাকার পল্লী চিকিৎসক রওশন আলীর অপচিকিৎসার কারনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে ভালুকা মডেল থানায় অভিযোগ নিয়ে আসেন। থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন,বিষয়টি তদন্তাধিন আছে। মেয়ের বাবা স্থানীয় এক মেম্বারকে নিয়ে থানায় এসেছিল। আমি ঘটনাস্থলে অফিসার পাঠিয়েছি।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানাযায়, উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের মোঃ খলিলের মেয়ে খাদিজার সাথে একই গ্রামের সুমেশ ফকিরের ছেলে আল আমীনের দুই বছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই খাদিজা-আল আমীন দম্পতির সংসারে কলহ লেগেই থাকতো। এর মাঝে তাদের সংসারে এক মেয়ে সন্তানের জন্ম লাভ করে তার নাম আল মিনা বয়স ৯মাস। আল আমীনের সাথে তাঁর সৌদি প্রবাসী বড় ভাই আলহাজের স্ত্রী শিমুর সাথে দীর্ঘ দিন যাবত পরকীয়া সম্পর্ক। এ পরকীয়ার কারনে আল আমীনের প্রথম স্ত্রী চলে যায়। পরে দ্বিতীয়বার আল আমীন খাদিজাকে বিয়ে করেন। ঘটনার দিন এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয়। এ সময় আল আমীন খাদিজাকে কয়েকটি চর থাপ্পর মারে। ঘর থেকে বের হয়ে খাদিজা রান্না ঘর থেকে বিষ এনে তাঁর স্বামী ও ভাবি শিমুর সামনে বিষপান করে। এ সময় আল আমিন ও তাঁর ভাবি দুজনেই উপহাস করে আরও বেশি করে বিষ খেতে বলে। ঘটনার পর  আল আমীন খাদিজাকে নিয়ে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে তার দুই সহযোগী  শাহজাহান ও আনিছকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী সখিপুর উপজেলার আড়াইপাড়ার পল্লী চিকিৎসক রওশনের ফার্মেসিতে নিয়ে যায়। রওশন আলী তাঁর ফার্মেসীতে রেখেই বেলা ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত খাদিজাকে চিকিৎসা দেন। বিকালের দিকে খাদিজার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়লে রওশন অবস্থার বেগতিক দেখে তাঁকে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক খাদিজাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খাদিজার বাবা খলিল মিয়া দাবী করেন, আমি আমার মেয়েকে চিকিৎসা করার জন্য ভালুকা সরকারী হাসপাতালে নিতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু আমার মেয়ের জামাই,শাহজাহান ও আনিছ জোর করে তাঁকে আড়াইপাড়া রওশন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। রওশন ডাক্তারের অপচিকিৎসার জন্যই আমার মেয়ে মারা গেছে। চিকিৎসার নামে টাকা আদায় করার জন্যই রওশন ডাক্তার আমার মেয়ে আটকিয়ে রেখে ছিল। সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা করলে আমার মেয়ে মারা যেতো না।

আল আমীন জানান, আমার সাথে ঝগড়া করে খাদিজা বিষ পান করে। আমি তাকে বাঁচানোর জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে ছিলাম। চিকিৎসা করেও বাঁচাতে পারলাম না। আমার ভাবি সাথে আমার কোনো পরকীয়া সম্পর্ক নেই।

পল্লী চিকিৎসক রওশন আলী মোবাইল ফোন করলে অপর প্রান্থ থেকে উত্তর আসে আমি তার খালাতো ভাই আব্দুর রহমান বলছি। ওনি আসলে পরে ফোন করেন। পরে রওশনের নাম্বারে বারবার ফোন করলে ফোন রিসিভ করেননি।

ভালুকা মডেল থানার এসআই অলক কুমার দত্ত বলেন, আমি ঘটনাস্থলে আছি ঘটনাটি তদন্ত করছি। এ ঘটনায় সখিপূর থানায় একটি অমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণা করেছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই