তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে

কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে-বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
[ভালুকা ডট কম : ১৭ আগস্ট]
কোরবানির পশুর চামড়ার নজিরবিহীন দর বিপর্যয়ের পর কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্তে অনড় থাকাবে কী না তা নিয়ে  সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছে সরকার। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামীকাল (রোববার) সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসার উদ্যাগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কাঁচা চামড়ার বাজারে ভারসাম্য আনতে ও সিন্ডিকেটের কবল থেকে রক্ষা করতে চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা উচিত হবে না।

এদিকে, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ জানিয়েছেন, আজ (শনিবার) থেকে ট্যানারি মালিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া কেনা শুরু করেছে। সরকার নির্ধারিত মূলে আগামী দুই মাস চামড়া সংগ্রহ করা হবে। যে চামড়াগুলি সঠিকভাবে সংরক্ষন করা হয়েছে সেগুলি তারা  সরকার নির্ধারিত দামেই কিনবে। তবে তারা এ বছর বাজার পতনের জন্য কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তবে, কাঁচা চামড়ার আড়তদাররা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে এবার ট্যানারি মালিকদের কাছে তারা চামড়া বিক্রি করবে না।  আজ রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি দেলোয়ার হোসেন।

এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, বাংলাদেশি চামড়াকে আজকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়তে হয়েছে বলে দেশীয় চামড়ার বাজারে বিপর্যয়কর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলোজি ইনস্টিটিউট-এর আধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন বলছেন, দেশে উৎপাদিত চামড়ার মান উন্নত করা গেলে এদেশেই মানসম্মত চামড়াজাত পণ্য তৈরিতে বিদেইশ চমড়া আমদানি করতে হবে না। এর ফলে রপ্তানি পোশাক খাতের মতো চামড়াজাত পণ্য তৈরি করেও বাংলাদেশে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মূদ্রা আয় করতে পারবে।

সংখ্যার হিসাবে দেশে প্রতিবছর চামড়া সংগ্রহ হয় সোয়া দুই কোটিরও বেশি। যার মধ্যে বড় অংশের যোগান আসে কোরবানির পশু থেকে। তবে, বিভিন্ন কারণে বিগত কয়েক বছরে এ খাতে রপ্তানি কমেছে। ২০১৬-১৭ তে ১২৩ কোটি ডলার আয় হলেও ২১ কোটি কমে গেল অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি ডলারে। চামড়া শিল্পের প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছর সংগৃহীত দেশীয় চামড়ার ৪০-৪৫ শতাংশ এখনো অবিক্রিত রয়ে গেছে।

অপরদিকে, দেশীয় চামড়া উদ্বৃত্ত থাকার পরও জুতা, ব্যাগসহ বিভিন্ন  চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুত করতে বাংলাদেশি উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশী ব্রান্ডের চাহিতা অনুযায়ী বিদেশ থেকে কাঁচামাল হিসেবে চামড়া আমদানি করতে হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ বাবদ আমদানি করা হয় প্রায় ১০ কোটি ডলারের চামড়া, পরের বছরেই যা ছাড়িয়ে যায় ১১ কোটি। তাছাড়া, চামড়ার বিকল্প হিসেবে সিনথেটিক ও ফাইবারের জুতার ব্যবহার বেড়ে যাকার কারণেও বাংলাদেশের চামড়ার তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়েছে।

এদিকে,চামড়ার দরপতনের খেলায় মেতে উঠা চক্রকে খুঁজে বের করার জন্য সরকার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী বলেন,বর্তমান সরকারের আমলে চামড়া শিল্পের রপ্তানি বহুগুনে বেড়েছে। বাংলাদেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, সেই হিসেবে ট্যানারির সংখ্যা বাড়েনি। পরিবেশ সংরক্ষণের ব্যর্থতার কারণে বহু ট্যানারি বন্ধ হয়ে আছে। এই সুযোগ নিয়ে একটি চক্র চামড়া দরপতনের খেলায় নেমেছে। এই চামড়ার দরপতনের খেলায় যারা মেতেছে, সরকার তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই