তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২০, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

ভালুকার করোনা আপডেট

২৯ জুন ২০২০, সোমবার
আক্রান্ত
২৪ ঘন্টা মোট
৫ জন ২২৯ জন
সুস্থ
২৪ ঘন্টা মোট
০ জন ৮২ জন
মৃত্যু
২৪ ঘন্টা মোট
০ জন ৩ জন

বিস্তারিত বিষয়

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশের অবনতি

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশের অবনতি     
[ভালুকা ডট কম : ০৫ জুন]
বিপর্যয়ের যতগুলো হুমকি নিয়ে পৃথিবী আজ আতঙ্কিত তার মধ্যে অন্যতম হলো পরিবেশের অবনতি। পরিবেশের অবনতিকে উচ্চ পর্যায়ের হুমকি ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ। জীবনের অস্তিত্ব রক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণের বিকল্প নেই। সবধরণের প্রাণের অস্তিত্ব  পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত।

বলা হয়েছে ভারসাম্য পূর্ণ পরিবেশ হলো পৃথিবীতে প্রাণের ধারক ও বাহক। একবিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকেই পৃথিবী জুড়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, মেরুর বরফ গলন, প্রাচীন জীবাণুসমূহের ফিরে আসা, মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়ে আসছিলো। সময় হয়েছে এখন তা মোকাবিলা করার। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ব্যাপক বন্যা,খরা,অতিবৃষ্টি, প্লাবন,ঘূর্ণিঝড় সহ বিভিন্ন দুর্যোগ বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৭,১৯৮৮,১৯৯৮ সালের বন্যায় দেশের অবকাঠামো, ফসল ও পশুসম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিল ১,৫০,০০০ মানুষ। ২০০৭ সালের সিডরের ক্ষত এখনো বিরাজমান। এরি ধারাবাহিকতায় পরপর অনেকগুলো দুর্যোগ মোকাবেলায় জনজীবন অস্থির হয়ে আছে। এই মুহূর্তে উদ্ভুত করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সাথে আশঙ্কা হিসেবে যুক্ত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান।

পৃথিবীর জলবায়ুর গড় তাপমাত্রার লক্ষনীয় বৃদ্ধির পরিমান হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে মানুষ সৃষ্ট কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটছে। ফলে তৈরি হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। ধারণা করা হয় একশো থেকে দুইশো বছরের মধ্যে পৃথিবীর জলবায়ুতে যদি তাপমাত্রা এক ডিগ্রী বা এর চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায় তখন তাকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলা হয়। =বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো গ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়া। এটি হলো এমন এক বিষয় যা সূর্য হতে আগত তাপশক্তিকে পৃথিবীতে ধরে রাখে। বিশদভাবে  বলা যায় যে, সূর্য রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করার পর এর মোট শক্তির শতকরা হারে ৭০ শতাংশ ভূমন্ডলীয় স্তরে ও অন্যান্য বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। বাকি ৩০ শতাংশ বরফ, মেঘ,সমতল এবং বিভিন্ন প্রতিফলক দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়। এক্ষেত্রে আটকে থাকা ৭০ শতাংশ শক্তিও কিন্তু আটকে থাকে না। ভূমন্ডলে বিচরণকারী জীব সম্প্রদায় ও অন্যান্য উপাদান কতৃক ব্যবহৃত হওয়ার পর আহরিত সূর্যের তাপ বিকীরনের মাধ্যমে মহাশূন্যে ফিরে যায়। কিন্তু বিকিরিত তাপের সবটুকু ফিরে যেতে পারে না। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের স্তরে বিদ্যমান কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, জলীয়বাষ্প ও অন্যান্য গ্রীনহাউজ গ্যাসের কারনে তা পৃথিবীতে আবদ্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ যে পরিমান তাপশক্তি প্রবেশ করেছে, ছেড়ে যাচ্ছে তার থেকে কম পরিমাণ। ফলে তা পৃথিবীকে গরম করে তুলছে।

শিল্পায়ন, নগরায়ণ, প্রযুক্তির ব্যবহার ও নানাবিধ কারণে এসব গ্রীনহাউজ গ্যাসের সৃষ্টি হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পের প্রসার সহ বিভিন্ন কাজের ফলে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বাড়ছে। উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতেও এখন পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটে চলছে।  এ নিয়ে অনেক সম্মেলন, চুক্তি, আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গবেষণার আলোকে বলা আছে বর্তমান বিশ্বের গড় তাপমাত্রা একশো বছর পূর্বের তাপমাত্রার তুলনায় প্রায় ০.৬০ ডিগ্রী সে. বৃদ্ধি পেয়েছে। সে তুলনায় বাংলাদেশে ০.৫০ ডিগ্রী সে.  বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে ১.৫-২.০ ডিগ্রী সে. পর্যন্ত বা তারো বেশি।

আইপিসিসি উদ্ভাবিত জলবায়ু মডেলে দেখানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে শতকরা ১০-১৫ শতাংশ অধিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা এবং ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাবে।

জানা যায় যে, সমুদ্র পৃষ্ঠে ২৭ ডিগ্রী সে. এর অধিক তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টিতে সহায়ক। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা আরো অনেক বৃদ্ধি পাবে। গবেষণায় বিশেষজ্ঞগণ আলোকপাত করেছেন যে, আগামী ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১.৮ থেকে ৬.৩ ডিগ্রী সে. পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে করে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ০.৫ মিটার বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জনবহুল বদ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা, জলোচ্ছ্বাস দেখা যাবে। হারিকেন, ঘূর্ণিঝড়, প্লাবন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ বার বার আঘাত করবে। পাশাপাশি নানান ধরনের মহামারি ও বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিবে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। বাংলাদেশে প্রতিবছর  শতকরা ২৮ ভাগ মানুষের মৃৃত্যু হয় শুধু পরিবেশ দূষণ জনিত অসুখ বিসুখে। ১৯৭২ সালের স্টকহোম সম্মেলনে   পরিবেশ সংরক্ষণের ও এ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ  মোকাবিলার লক্ষে যে  সিদ্ধান্ত  গৃহীত হয়েছিল তার ধারাবাহিকতায় একি বছর ১৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৫ জুনকে  বিশ্ব পরিবেশ দিবস ঘোষণা করে। এবং ইউএনইপি  নামক সংস্থা জন্ম  লাভ করে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে   জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের  বিষয়টি   জনমনে আশার আলো সঞ্চার  করেছে। আমাদের সচেতন হতে হবে এবং   পরিবেশ  সুুরক্ষায় ও জলবায়ুর ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে হবে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে সরকারের  পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক   অংশগ্রহণ হোক আমাদের নিরন্তর প্রয়াস। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক/বার্তা প্রেরক
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম তরফদার
প্রভাষক, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ
সরকারি এম এম আলী কলে,  টাঙ্গাইল।




সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

পরিবেশ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৮৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই